অর্থ বিল ২০২৬-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো ও আপিলে জমা অর্থ কমানোর প্রস্তাব

ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উন্নীত করা, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার কর শূন্যে নামিয়ে আনা এবং আয়কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত আপিলে জমা অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব এসেছে অর্থ বিল ২০২৬-এ।

গতকাল রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান রহমান রহমান হক (আরআরএইচ) আয়োজিত ‘অর্থ বিল ২০২৬: আয়কর ও ভ্যাট বিধানে প্রস্তাবিত সংশোধনী’ শীর্ষক কারিগরি সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, করপোরেট নির্বাহী, কর পরামর্শক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অর্থ বিল ২০২৬-এ প্রস্তাবিত আয়কর ও মূসক সংশোধনী এবং এসব পরিবর্তনের ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও করপোরেট খাতে সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের পেশাজীবী ও করপোরেট নির্বাহীদের অবহিত করতেই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। সেমিনারে আরআরএইচের সিনিয়র পার্টনার আদিব এইচ খান উদ্বোধনী বক্তা এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্টনার এম মেহেদী হাসান। তিনি ভ্যাট আইনের সংশোধনীগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

সেমিনারে জানানো হয়, সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বর্তমানে ৩ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আয়কর আইনে কর বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আপিলকে উৎসাহিত করতে প্রথম আপিলে কর দাবির বিপরীতে জমা অর্থ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে হাইকোর্ট বিভাগে রিট বা আপিলের ক্ষেত্রে জমার হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

করপোরেট করের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ২০ থেকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করহার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির জন্য করহার ৩৭ দশমিক ৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে যানবাহনের ইঞ্জিন ক্ষমতা অনুযায়ী ২৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিবেশ সারচার্জ আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

ভ্যাট খাতে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে মাসিক কর সময়কাল বহাল রেখেও প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ভ্যাট-সংক্রান্ত আপিলে কমিশনার পর্যায়ে জমা অর্থ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ এবং উচ্চ আদালতে আপিলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মূল প্রবন্ধে।

ভ্যাট বিরোধের ক্ষেত্রে সুদের দায় অনির্দিষ্টকাল বহাল রাখার পরিবর্তে সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাবও অর্থ বিলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আরও